মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
দেশের প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক ডি-রেডিক্যালাইজেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৭১ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন

যারা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের দিকে চলে গেছে তাদের চিহ্নিত করে বা গ্রেফতার করে কারাগারে দেওয়া হয়। জামিনে ফিরে এসে তারা আবার একই কার্যকলাপের জড়িয়ে পড়ে। এসময়ে তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে কিংবা পুনর্বাসনে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। তাদের আদর্শও ধ্বংস হয় না। অভিযানের পাশাপাশি ডি-রেডিক্যালাইজেশনের মাধ্যমে উগ্রবাদের কথিত আদর্শিক বিষয়কে মোকাবিলা করতে হয়। তাই বিশ্বের অন্য দেশের মত সঠিক প্রক্রিয়ায় ডি-রেডিক্যালাইজেশন করে জঙ্গিবাদ থেকে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে র‍্যাব। পাইলট প্রকল্পে সফলতার পর প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ডি-রেডিক্যালাইজেশন শুরু করতে যাচ্ছে সংস্থাটি।
র‍্যাব বলছে, উগ্রবাদের সঙ্গে জড়িত প্রথম তিন ধাপের ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেবে তারা। জঙ্গি নিয়ে কাজ করা সংস্থাটি বলছে, যখন কেউ জঙ্গি বা উগ্রবাদী হয় তখন সে প্রথম দিনেই জঙ্গি হয়ে যায় না। পাঁচ ধাপ শেষ করে একজন ব্যক্তি পূর্ণ জঙ্গিতে পরিণত হয়। প্রথম ধাপে তারা ওই জঙ্গি সংগঠনের প্রতি সহমর্মিতা দেখায়। দ্বিতীয় ধাপে সে হয়ে যায় ঐ সংগঠনের সমর্থক। তারপর সে হয় অ্যাক্টিভিস্ট। এ পর্যায়ে সে বিভিন্ন কার্যকলাপে অংশ নেয়। চাঁদা আদায় করে, দাওয়াত দেয়। তারপর সে হয় এক্সট্রিমিস্ট। নিজের ভেতর উগ্রবাদ ধারণ করে। শেষ পর্যায়ে গিয়ে সে পরিবার-জগত থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নেয়। সে অস্বাভাবিক একটা জীবন যাপন শুরু করে। বায়াত গ্রহণ করে। আর যখন বায়াত গ্রহণ করে তারপর তারা জঙ্গিবাদে লিপ্ত হয়ে যায়। প্রথম তিন পর্যায়, সংগঠনের প্রতি সহমর্মিতা, সমর্থন, এবং অ্যাক্টিভিস্ট যারা আছে তাদের নিয়ে কাজ করছে র‍্যাব। তাদেরকে স্বাভাবিক জীবন যাপনের ফেরত আনার চেষ্টা করবে।
২০১৬ সালে রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজানে নৃশংস জঙ্গি হামলার ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত র‌্যাবের কাছে ৭ জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেছে। মূলত সরকারের পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় র‌্যাব তাদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে এখানে সফলতা পাওয়ার পর এটি স্থায়ী রূপ দিতে কাজ করছে র‌্যাব। সমাজে পুনর্বাসিত করার জন্য তাদের ডি-রেডিক্যালাইজেশন করবে। আর তার জন্য র‍্যাব সদস্য, শিক্ষক, হুজুরদের নিয়ে একটা টিমও গঠন করেছে এই এলিট ফোর্স।
এসব বিষয়ে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার বলেন, আমরা জঙ্গিদের ধ্বংস করতে পারবো। সামর্থ্য নষ্ট করতে পারবো। কিন্তু তার আদর্শ তো ব্রেনে। সেটা কী করবো? কারো ভেতর যদি ভুল কোনও আইডোলজি থাকে সেটা শুধু যদি বন্দুক দিয়ে মোকাবিলা করা যায় না। এতে আইডোলজি কিন্তু মরবে না। শুধু বন্দুক, অপারেশন এগুলো কাউন্টার টেররিজমের একটা অংশ। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নয়।
কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার বলেন, র‌্যাবের প্রতি মানুষের একটি ভ্রান্ত ধারণা আছে ক্রসফায়ারজনিত। আমরা আসলে সমূলে উৎপাটন করতে চাই। ক্রসফায়ার বলতে কিছু নেই। আমরা এটা এভাবে দেখি না। সমূলে উৎপাটনে বিশ্বাস করি। সেজন্য আমরা ড্রাগ নিয়ে গতবছর কোভিড এর আগে অনেক কাজ করেছিলাম। তার মধ্যে সাইকেল র‌্যালি করেছিলাম, মোটিভেশনাল ক্লাস করেছি। এ ধরনের ক্যাম্পেইন করে জনসচেতনতা তৈরি করতে কাজ করেছি।
র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) বলেন, জঙ্গিবাদের বিষয়ে আমরা দেখেছি। করোনা সিচুয়েশনে জঙ্গিদের কার্যক্রম থেমে নেই। বরং তারা এই অবসর সময় একটু বেশি কাজে লাগিয়েছে। ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকার সুযোগ পেয়েছে। সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে।। অনেক জঙ্গিদের আমরা ধরি, আইনের আওতায় আনি। সেই সুবাদে আমরা দেখেছি, তাদের মধ্যে একটা হতাশা কাজ করে। তাদের হতাশা আছে। তারা একটা জায়গায় ঢুকে যাওয়ার পরে আর বের হতে পারে না। যদি না তার স্ট্রং পুনর্বাসন ব্যবস্থা থাকে। কেননা তার সঙ্গী যারা আছে তারাই কিন্তু এটা হতে দেবে না। তাদের এই পুনর্বাসনের বিষয়টি আলোচিত হয় না। এটাও কিন্তু সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পলিসি। আমরা এই বিষয়টাকে আলোচনায় আনতে চাই। তাদের পুনর্বাসন করে জঙ্গিবাদ বা উগ্রবাদ থেকে ফিরিয়ে আনতে চাই।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন


এ জাতীয় আরো খবর...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর