মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
দেশের প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

অনেক দেশ নদী ও পানি বন্টনে যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদান করছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৯৭ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২১, ৫:৪২ অপরাহ্ন

২০১৯ সালে হাইকোর্ট নদীকে একটি জীবন্ত সত্ত্বা ঘোষণা করে। উন্নত নদী ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশসহ সকল দেশেই আন্তর্জাতিক আইন ও বিধি-বিধান রয়েছে। এতদসত্ত্বেও অনেক দেশ নদী ও পানি বন্টন ব্যবস্থাপনায় সে সকল বিধান বাস্তবায়নে যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদান করছে না। পানি ন্যায্যতা নিশ্চিতকল্পে আঞ্চলিক সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করার জন্য জোরালো আহ্বান জানান জনাব হাওলাদার।

‘নদী জীবন্ত সত্ত্বা এবং পানির ধারক। সুতরাং নদী রক্ষার্থে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে’ একশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত ৩ দিন-ব্যাপী ৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সদ্যবিদায়ী চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার এ কথা বলেন।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) এ আয়োজনের উদ্বোধনে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে নদী ও পানি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ, এনজিও কর্মীসহ অনেকেই এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে যোগ দেন। প্রথম দিনের প্রধান থিমেটিক সেশন ছিল ওয়াটার কমনস- লেসনস ফ্রম কোভিড-১৯।

‘ওয়াটার ক্লাইমেট এন্ড জাস্টিস ইন দ্যা ওয়েক অফ কোভিড-১৯’ শীর্ষক সম্মেলেনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক জনাব ইমতিয়াজ আহমেদ যেখানে পানি, জলবায়ু, ন্যায্যতা এবং কোভিড-১৯ বিষয় প্রাধান্য পায়। তিনি উল্লেখ করেন মহামারীর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বরাদ্দের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যকার অসমতাসহ পানি সম্পদ বরাদ্দে গ্লোবাল নর্থ ও গ্লোবাল সাউথের মধ্যকার অসমতাও আলোচনায় উঠে এসেছে। মহামারির সময়ে পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও দুষ্প্রাপ্যতার সমস্যা মোকাবিলার ওপর ড. আহমেদ আলোকপাত করেন। বিশুদ্ধ পানির দুষ্প্রাপ্যতা উন্নয়নশীল দেশের জন্য মহামারী সময়ে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মেডিকেল বর্জ্য এবং মাস্ক জলবায়ুর উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে তিনি যুক্ত করেন।

দ্যা গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অফ ওয়াটার মিউজিয়ামস -এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. এরিবার্তো ইউলিসি তার বক্তব্যে এই নেটওয়ার্কের ভূমিকা তুলে ধরেন । তিনি বলেন পানি সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নে পানিকে অন্তর্ভূক্ত করতে মানুষ ও বিভিন্ন সংস্থাকে যুক্ত করার কাজই হচ্ছে দ্যা গ্লোবাল নেটওয়ার্কের। ‘অতীত এবং বর্তমান ওয়াটার নলেজের একটি সংযোগ হতে পারে এই পানি জাদুঘর যার মাধ্যমে সর্বসাধারনকে নতুনত্ব এবং নতুন মূল্যবোধকে উদ্দীপিত করতে পারে’ বলে জানান এরিবার্তো ইউলিস।

পানি জাদুঘরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন এই বৈশ্বিক পানি সংকটের যুগে পানি জাদুঘর হতে পারে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যম । বাংলাদেশের মতো দেশে পানি জাদুঘর নদীর অধিকার রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কুয়াকাটার কলাপাড়ায় একশনএইড প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি-বেইজড পানিজাদুঘরের উদ্যোগকে তিনি প্রশংসা করেন।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, আমরা নানা উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে নদী-অধিকারের ইস্যুটি আলোচনায় এগিয়ে নিতে কাজ করে চলছি। আমরা বিশ্বের নদী বিষয়ক বিভিন্ন নেটওয়ার্কের সাথে যোগাযোগ রক্ষার্থে পটুয়াখালীতে পানি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেছি। হালদা নদী রক্ষা আন্দোলনকেও একশনএইড সমর্থম করছে। নদীকে হেরিটেজ হিসাবে ঘোষনা দিতেও সরকারের সাথে এ্যাডভোকেসি করে যাচ্ছে একশনএইড বাংলাদেশ, তিনি উল্লেখ করেন।

আহমেদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্যা সেন্টার ফর হেরিটেজ ম্যানেজেমেন্ট-এর এডজাঙ্কট প্রফেসর সারা আহমেদ বলেন যে আমাদের সবাইকে জলবায়ু বিবেচনায় পানি ব্যবস্থাপনায় নতুন করে ভাবতে হবে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে পল্লীগীতি ও লালন সঙ্গীতের স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীন নদী বিষয়ক জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন। তাছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ এর পরিচালক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এর লেখা বই ‘রাইটস, রিভারস এন্ড দ্যা কোয়েস্ট ফর ওয়াটার কমন্স: দ্যা কেইস অফ বাংলাদেশ’ এর ভার্চ্যুয়াল উন্মোচনও হয় সম্মেলনের এই সেশনে। একশনএইড প্রতিষ্ঠিত পানি জাদুঘরের স্থাপত্যবিদ জনাব রাজন দাশ তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন সম্মেলনের ২য় পর্বে।

তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন চারটি থিমেটিক সেশন- ওয়াটার কমনসঃ লেসনস ফ্রম কোভিড-১৯, ওয়াটার জেন্ডার এন্ড কোভিড-১৯ নেক্সাস, রাইটস অফ রিভারস এবং ওয়াটার অ্যান্ড ক্লাইমেট গ্রাসরুটস ইনোভেশন এন্ড সলুশন এর ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলন চলবে ২৯ জানুয়ারি প্রতিদিন বিকাল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ৭.৩০ পর্যন্ত।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন


এ জাতীয় আরো খবর...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর