মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
দেশের প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

কুমারখালীতে বিলুপ্তির পথে শতবছরের ঝাড়ু শিল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩৫৫ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : রবিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২১, ৪:৩১ অপরাহ্ন

গণসময়.কম ॥ বাসাবাড়ি কিংবা অফিস, হোটেল বা রেস্টুরেন্ট, রাস্তঘাটসহ সব স্থানে পরিস্কার পরিছন্নতার কাজে ব্যবহৃত হয় হাতে তৈরি ঝাড়ু বা বারুন। এটাকে এক প্রকার কুটির শিল্পও বলা হয়। এই শিল্পের প্রধান কাঁচামাল ছনখড়, যা প্রাকৃতিক উপায়ে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বেশি জন্মে। নদী এলাকা ছাড়াও কৃষকের পতিত উচু
ভূমিতেও দেখা মেলে ছনখড়ে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার এলংগী পাড়ায় বংশ পরম্পরের ঐতিহ্য হিসেবে প্রায় শতবছর ধরে শতাধিক পরিবার সন্তানের মতই বুকে আগলে রেখেছে স্বৃকিতি না পাওয়া অবহেলিত এই কুটির শিল্পকে। বারুন বা ঝাড়ু পট্টি হিসেবেই বেশি পরিচিত আছে এলাকাটির। কিš‘ু ঝাড়ু বা বারুন তৈরিতে এই এলাকার শত বছরের ঐতিহ্য থাকলেও মেলেনি কুটির শিল্প হিসেবে বিসিকের স্বীকৃতি। ফলে সরকারি বা বে-সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত বারুন শিল্পের এই একশত পরিবারের কারিগররা। শুধু তাই নয়, মহামারি করোনা ভাইরাসের কোন প্রণোদ নাও জুটেনি তাদের ভাগ্যে।
সরেজমিন গিয়ে এলংগী বারুন পট্টি এলাকা ঘুরেঘুরে জানা গেছে, প্রায় শত বছর আগে ইসমাইল নামের একজন কারিগর এই অঞ্চলে প্রথম শুরু করেছিল ঝাড়ু বা বারুন তৈরির কাজ। এরপর ইসমাইলের ছেলে সেলিম ও তার ছেলে কালামের হাত বদলিয়ে বংশ পরম্পর চলে আসছে এই শিল্পটি। যান্ত্রিক যুগে ঝাড়ু বা বারুনের বিকল্প যন্ত্র তৈরি হলেও এই এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার এখনও আগলে রেখেছে শিল্পটি।
আরো জানা গেছে, ঝাড়ু বা বারুন তৈরির প্রধান কাঁচামাল ছনখড় এখানকার কারিগরদের দূরদুরান্ত হতে কিনে আনতে হয়। বছরের চৈত্র,বৈশাখ মাসসহ মাত্র কয়েকমাস পর্যাপ্ত ছনখড় পাওয়া যায়।কিš‘ সারাবছর কাজ চলমান রাখার জন্য কাঁচামাল কিনে মজুদ রাখতে হয়।এখানকার কারিগররা আর্থিকভাবে অস”ছল হওয়ায় পর্যাপ্ত কাঁচামাল কিনে মজুদ করতে পারেনা।অনেকে বে-সরকারি বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কাঁচামাল সংরক্ষণ করে।কিš‘ সেখানে অধিক সুদ হওয়ায় প্রতিবছর ঋণ নিয়ে কাঁচামাল মজুদ করা সম্ভব হয়না।
জানা যায়, প্রতিটি বারুন তৈরিতে ৩ থেকে ৫ জন লোকের প্রয়োজন হয়। কেউ ছনখড় ঝাড়া দেয়, কেউ গুছি বাঁধে কেউবা আবার মুড়াই আবার সবশেষে আরেকজন দড়ি দিয়ে বাঁধে পূরাঙ্গ বারুন বা ঝাড়ু তৈরি করে। প্রতিটি বারুন বা ঝাড়ু তৈরিতে খরচ হয় ৩ থেকে ৪ টাকা এবং বাজারে বিক্রি হয় ৬ থেকে ৭ টাকা।দলবদ্ধভাবে কাজ করলে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ শত বারুন তৈরি করা যায়। এবিষয়ে এলংগীপাড়ার বাবুল শেখ (৪০) বলেন, খুব ছোট থেকেই বারুন বানানোর সাথে আছি।আমার বাবা করেছে, দাদা করেছে, শুনেছি তার দাদারাও এই এলাকায়
বারুন বানাতো।তিনি আরো বলেন, বারুন বানানো একটা নিচু পেশা, সমাজে কেউ দাম দেয়না। শুধু বংশগত পেশা বলে ছাড়তে পারিনি। আতিয়ার শেখ (৫৫) বলেন, খুব ছোটবেলা থেকে একাজ করি। কিš‘ কোনদিন সরকারি বা বে- সরকারি কোন লোক ফুকছি দিলনা। মাজেদা খাতুন বলেন, ঘরের কাজের পাশাপাশি বারুন তৈরি করি। প্রতিদিন ১৫০/২০০ টাকা আয় করি। দিনদিন মানুষ বারুন বানানো বাদ দিয়ে অন্যকাজে চলে যা”েছ। তিনি আরো বলেন, সরকারি সাহায্য সহযোগীতা পেলে ভাল হত। করিম শেখ বলেন, এনজিও থেকে কিস্তি নিয়ে ছনখড় কিনি রাখি, এতে খরচ বেশি হয়।আমাদের স্বীকৃতি না থাকায় ব্যাংক লোন দেয়না করোনার ভিতরও কিছু পাইনি।
কুমারখালীর এই বাড়ুন (ঝাড়ু) পল্লীর হওয়া এই পন্য কুষ্টিয়া জেলার চাহিদা পূরন করে দেশের বিভিন্ন জেলাতেও রপ্তানি হ”েছ। প্রায় প্রতিদিনই জেলার বাইরে থেকে আসে ব্যাপারিরা। আর সেটা নিয়ে বিক্রি হয় দেশের বিভিন্ন জেলাতে।
এবিষয়ে কুষ্টিয়া বিসিকের ডিজি সোলাইমান হোসেন বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি এলংগী এলাকায় প্রায় শতবছর ধরে শতাধিক পরিবার ঝাড়ু বা বারুন তৈরি করে। এটা একটা কুটির শিল্প হলেও কুষ্টিয়ায় এই শিল্পের কোন
স্বীকৃতি এখনও দেওয়া হয়নি। তিনি আরো বলেন, অল্পদিন হল আমি কুষ্টিয়ায় যোগদান করেছি, ইতিমধ্যে এলংগী এলাকা পরিদর্শন করেছি, প্রথমে তাদের স্বীকৃতি এবং পরে সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। ক্যাপশন:কুমারখালী উপজেলার এলংগী পাড়ায় বংশ পরম্পরের ঐতিহ্য হিসেবে প্রায় শতবছর ধরে শতাধিক পরিবার সন্তানের মতই বুকে আগলে রেখেছে কুটির শিল্পকে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন


এ জাতীয় আরো খবর...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর