মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৪২ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
দেশের প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নি‌শ্চি‌তে তৎপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা‌হিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩৪০ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শনিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২১, ৭:১৯ অপরাহ্ন

আজ শ‌নিবার কুষ্টিয়া সদরসহ ৪টি পৌরসভার নির্বাচন অনু‌ষ্ঠিত হ‌চ্ছে। সদর, ভেড়ামারাসহ ৪টি পৌরসভার ৪৮টি ওয়ার্ডে পুরুষ ও মহিলা নিয়ে মোট ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ২ হাজার ৪৭৭ জন।

নির্বাচনে ১৩ জন মেয়র, ১৮৪ জন কাউন্সিলর ও ৬১ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্দীতা করছেন।

৮৯ টি কেন্দ্রে আইনশৃংলাবাহিনীর কাজে নিয়োজিত র‌য়ে‌ছেন ৬৮ জন ম্যাজিষ্ট্রেট, ৮৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আনসারসহ র‌্যাব ও বিজিবি টহল মোতায়েন র‌য়ে‌ছে।

জানা যায়, গত প্রায় এক মাস কুষ্টিয়া সদরসহ ৪টি পৌরসভায় মেয়র, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরগণ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত শেষ প্রচারণা চলেছে। পৌষ ও মাঘের শীতের প্রকোপকে উপেক্ষা করে প্রার্থীরা ভোট প্রার্থনা শেষে গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মোবাইল ফোনে ভোটারদের খোঁজ খবর নিয়েছেন।

এই প্রথম বার কেন্দ্রে সকালে ব্যালট পেপার প্রেরণ করা হয়ে‌ছে।

কুষ্টিয়া পৌরসভায় তবে মেয়র পদে লড়াই হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। লড়াই হবে ২১টি ওয়ার্ডে ১শ কাউন্সিলর পদের বিপরিতে।

নির্বাচনে মেয়র পদে এবারও আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার আলী দলীয় নৌকা প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। তার প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী রয়েছেন সদ্য বিলুপ্তি মজমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বশিরুল ইসলাম চাঁদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ আখন্দ। এরা কেউই বর্ষীয়ান আওয়ামীলীগের রাজনীতিবিদি বর্তমান মেয়র আনোয়ার আলীর প্রতিদ্বন্দীতার কাছেও যেতে পারবেন বলে জনমনে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।

২১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদের জন্য ১৩৬ জন মনোনয়ন পত্র উত্তোলন করেছিলেন। এর মধ্যে ১৪,১৫ ও ১৯ নং ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ১৮টি ওয়ার্ডে ১৩৩ জন প্রার্থী কাউন্সিলর মধ্যে ১শ জন শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে লড়াই করছেন।

জানা যায়, কুষ্টিয়া পৌরসভা ১৮৬৯ সালের ১লা এপ্রিল মজমপুর, বাড়াদি (আংশিক), মঙ্গল বাড়িয়া (আংশিক) হরেকৃষ্ণপুর, কমলাপুর, চৌড়াহাস(আংশিক), আড়ুয়াপাড়া এবং বাহাদুরখালী মৌজা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় কুষ্টিয়া পৌরসভা। এর পর থেকে ১৯৮১ সালে প্রথম এরপর কয়েকধাপে ২০১৬ সালে শেষ বারের মত সীমানা পুন নির্ধারিত হয়ে বর্তমানে ২১ টি ওয়ার্ড নিয়ে কুষ্টিয়া “ক” শ্রেনীর পৌরসভা গঠিত হয়।

কুষ্টিয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত প্রশাসন দিয়ে পরিচালনা হত। এর পর ১৯৭৪ সালে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় মোঃ আব্দুর রহীম। ২০০৪ নির্বাচনে আনোয়ার আলী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর সে বছরেই (২০০৪ সালে) কুষ্টিয়া পৌরসভা পদার্পন করে মেয়রের যুগে। ২০১৬ সালে প্রথম মেয়র নির্বাচনেও বিপুল ভোটে আনোয়ার আলী নির্বাচিত হয়।

কুষ্টিয়া নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১৫৩ জন প্রার্থী। তার মধ্যে তিন জন মেয়র প্রার্থী। তারা হলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত পৌরসভার একাধিক বার নির্বাচিত মেয়র আনোয়ার আলী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল (বিএনপি) থেকে বিলুপ্ত ৩ নং মজমপুর ইউনিয়নের একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান বশিরুল আলম চাঁদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আব্দুল্লাহ আখন্দ।

নির্বাচনে টানা দুই বারসহ পঞ্চম বারেরমত নির্বাচনে প্রতিদন্বদীতা করছেন মেয়র আনোয়ার আলী। এক স্বাক্ষাতকারে আনোয়ার আলী বলেন, এটি আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। এ বয়সে আমি আর কি প্রতিশ্রুতি দিতে পারি। তবে নাগরিকদের চাহিদামত হয়তো আমি উন্নয়ন দিতে পারি নাই। কিন্তু জনগণের আমানত আমি খিয়ানত করিনি।

আগামীতে নির্বাচিত হলে কুষ্টিয়া পৌরসভার বর্ধিত অংশসহ পুরো পৌরসভার মধ্যে ড্রেন, কালভার্ট, রাস্তা, ময়লা আবর্জনা নিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ সার্বিক কাজগুলো শেষ করবো। বিএনপি প্রার্থী বশিরুল আলম চাঁদ জানান, আওয়ামীলীগের প্রার্থী মেয়র আনোয়ার আলী মনোনয়ন পাওয়ার পর আমি তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আমাদের মধ্যে কোন দুরুত্ব নেই। তবে সুষ্ঠু ভোট হলে এবং ভোটাররা শান্তিপুর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারলে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো। আর উন্নয়নের ব্যাপারে আগে চেয়ারে বসি তখন ভেবে দেখবো।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ছামিউল হক জানান, সদর পৌরসভায় নির্বাচনকে অনুষ্টিত করতে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ৪টি পৌরসভার মধ্যে সদর পৌরসভার নির্বাচনটি অত্যান্ত গুরুত্বপুর্ণ। তাই এখানে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সদর উপজেলা নির্বাচন অফিস দিন রাত পরিশ্রম করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ, ভোটারদের উপস্থিতির বিষয়ে প্রচার-প্রচারণাসহ সব ধরণের কাজ শেষ করা হয়েছে। কোন প্রকার বিশৃংলার সুযোগ নেই। তিনি নির্বাবনকে সুষ্ঠু করতে সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

জেলা রিটানিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুৎফুন নাহার জানান, সদরে ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। চারটি পৌরসভায় ১২ প্লাটুন বিজিবি, ৬৮ জন ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। যে কোন পরিস্থিতি জেলা প্রশাসন ও জেলা নির্বাচন অফিস প্রস্তুত রয়েছে।

সদর পৌরসভায় সাধারণ কাউন্সিলর ১শ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ৩৪ জন প্রতিদ্বন্দীতা করবেন।

কুষ্টিয়া ভেড়ামারায় ৯টি ওয়ার্ডে ১৯ হাজার ৪০৫ জন ভোটার রয়েছেন। এখানে মেয়র পদে ৪ জন, কাউন্সিলর পদে পুরুষ ২৮ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদের জন্য ১০ জন প্রতিদ্বন্দীতা করছেন।

মিরপুর পৌরসভায় সাধারণ ও সংরক্ষিতসহ ১২টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা এখানে ১৮ হাজার ৯৮০ জন। ৩ জন মেয়র ৮ জন সংরক্ষিত মহিলা ও ৩৮ জন পুরুষ কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতায় নেমেছেন।

কুষ্টিয়া কুমারখালীতে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহন অনুষ্টিত হবে। এখানে সাধারণ ও সংরক্ষিত ১২টি ওয়ার্ডে ভোটার র‌য়ে‌ছে ১৮ হাজার ৯৮০ জন। মেয়র পদে ৩ জন, কাউন্সিলর পদে পরুষ ৩৮ জন ও সংরক্ষিত মহিলা পদে ৮ জন প্রতিদ্বন্দীতা করছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন


এ জাতীয় আরো খবর...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর