বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
মেধাবী ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন এর পাশে দাঁড়িয়েছেন নিঃস্বার্থ সেবা ফাউন্ডেশন জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইবিতে সভা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক হলেন রজত কান্তি দেব কক্সবাজারে দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎযাপন মিরপুরে নার্সারি ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার ১ ইবি ও জবি’র গবেষণা সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর উন্নত চিকিৎসার জন্য চ্যালেঞ্জকে ঢাকায় প্রেরণ ব্রাজিল ফ্যান ক্লাবের বর্ণাঢ্য র‌্যালী বাউলদের উপর হামলা ও সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী তৎপরতার প্রতিবাদে মানববন্ধন ইবি’র ৪৩ বছর পূর্ণ হচ্ছে কাল
ঘোষণা:
দেশের প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

কুষ্টিয়ায় উড়ছে রাইস মিলের তুষ-ছাই: দূষিত হচ্ছে পরিবেশ: নিরব কর্তৃপক্ষ

সলেমান শাহ্, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি / ৪০০ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১, ৯:২৩ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে রাইসল মিল বা চালকলের ধোয়ার সাথে তুষ-ছাই উড়ছে ব্যাপক হারে। এতে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। তারপরও রাইস মিলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেতা দেখা যায় না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
কুষ্টিয়ার খাজানগরে পরিবেশ অধিদফতরের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে মিল-কলকারখানা। বাংলাদেশে চালের প্রসিদ্ধ খাজানগর, আইলচারা, কবুরহাট। চালের চাহিদার কারণেই এখানে গড়ে উঠেছে অনেক অটো রাইস মিল ও ধান চাতাল। কিন্তু এসব অপরিকল্পিত রাইস মিল ও চাতালের ধোয়া, বর্জ্য, ধুলো ময়লা, তুষ ছাই উড়ে আবাসিক বসতবাড়িতে পড়ে একদিকে যেমন এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
অন্যদিকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে মিল গড়ে তোলায় দুর্ঘটনায় মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটছে। সুত্রমতে, চাল উৎপাদনের বৃহৎ শিল্পনগরী কুষ্টিয়ার খাজানগর, কবুরহাট, আইলচারা, বল্লভপুরে প্রায় ৭০টি বড় অটোরাইস মিলসহ ছোট-বড় সব মিলিয়ে প্রায় ৮শ টি রাইস মিল গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি ধান সিদ্ধ-শুকানোসহ নানা প্রক্রিয়ার জন্য চাতালও রয়েছে দুই সহ্রাধিক। সেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় বারো হাজার টন চাল উৎপাদিত হয়। এখানকার উৎপাদিত চাউলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাইরে রফতানি করা হয়।
চালের চাহিদা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় মিলাররা ও ব্যবসায়ীরা চাল উৎপাদনে যেমন আগ্রহী হয়ে উঠেছে তেমনি দিন দিন বেড়েই চলেছে অটোরাইস মিলের সংখ্যা। কিন্তু অটোরাইস মিল বাড়লেও তা নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে না। অটোরাইস মিলগুলোতে নির্দিষ্ট পরিমাণ উঁচু চিমনী থাকার কথা থাকলেও বেশিরভাগ মিলেই চিমনী নেই। চিমনী না থাকায় মিলের ছাই ময়লা উড়ে আশপাশের বাড়িঘর যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি পথচারীদের চোখে-মুখে পড়ে চোখ নষ্ট হচ্ছে। সেই সাথে ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা। সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে এখানকার মানুষ। খাজানগরের মিল সংলগ্ন ছোট ছোট ব্যাবসয়ী ও কয়েকটি পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন মিলের ধোঁয়া, ছাই ও তুষ উড়ে তাদের বসবাসের অবস্থা নেই। আবাসিক এলাকার মধ্যে এসব মিল গড়ে উঠায় সব সময় ছাই উড়ে তাদের ঘরবাড়ি অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে টিনের ঘর বসতবাড়িসহ গাছ-পালা। এতে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

এসব ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে এসব এলাকার পরিবারগুলোতে চোখের রোগ, অ্যাজমাসহ বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ সম্মুক্ষিন হতে হচ্ছে। জানা গেছে, মিলের ধোঁয়া ও ছাই উড়া বন্ধে নির্দিষ্ট পরিমান উঁচু চিমনী ব্যবহার। এবং মিলের নিচের দিকে হাওয়ার সাহায্যে ছাই এবং তুষ একস্থানে স্তুপ করা যায়। কিন্তু এটি তৈরি করতে বাড়তি ব্যয় হওয়ায় মিল মালিকরা এটি স্থাপন না করায় মিলে ছাই তুষ উড়ে পরিবেশ দূষিত হয়।
চাতালগুলোতেও জ্বালানি তুষ ব্যবহারের জন্য চিমনী তৈরি করলে এসব ছাই বাইরে উড়ে পড়ে না বলে অনেক মিলাররাও জানায়। কিন্তু নিয়মতান্ত্রিকভাবে মিল গড়ে না উঠায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী। এছাড়াও অপরিকল্পিতভাবে ছাইয়ের গাদার ওপর বিল্ডিং স্থাপন করায় দেয়াল ধসে মানুষের জানমালের চরম ক্ষতি হচ্ছে। কয়েক বছরে মারা গেছে বেশ কয়েকজন। মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের নির্দিষ্ট পোশাক ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও খাজানগর আইলচারার কোনো মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের পোশাক ব্যবহার করানো হয় না। ফলে মিলে ধূলা-ময়লা, ধোয়া সহজেই শ্রমিক-কর্মচারীদের দেহে প্রবেশ করে এ্যাজমা রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রন্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে পুরুষের তুলনায় নারীদের মজুরিতে বৈষম্য থাকলেও চাতালগুলোতে নারীরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে রাতযাপনের জন্য আবাসন না থাকায় মিলের ধুলো ময়লার মধ্যে রাত কাটানোর কারণে তারাও বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। এদিকে পরিকল্পিতভাবে মিল গড়ে তোলার দাবিতে বেশ কয়েকবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকার লোকজন। তাদের দাবি মিলগুলোতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে চিমনী ব্যবহারসহ কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে ছাই উড়া বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট শ্রম বিভাগ ও পরিবেশ বিভাগ থাকলেও তাদের কোনো তদারকি নেই এখানে। ফলে কুষ্টিয়ার খাজানগর আইলচারার মিল মালিকরা তাদের ইচ্ছেমতো মিলগুলো স্থাপন ও পরিচালনা করছেন। এতে জনসাধারণ দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
এলাকাবাসীরা বলেন, চাতালগুলির যত্রতত্র অবস্থান কালো ধোয়ায় চরম ভাবে পরিবেশ ও মানবাধীকার লংঘন হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্গত কালো ধোঁয়ার প্রভাবে ক্ষেতের ফসল উৎপাদন কমে গেছে। পশু-পাখির আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। জনবসতি এলাকা হওয়ায় নির্গত ধোঁয়া শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে দেহে প্রবেশ করে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মিলের ধোঁয়া ও ছাই উড়া বন্ধে নির্দিষ্ট পরিমান উঁচু চিমনী ব্যবহারের কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। তিনি অবিলম্বে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ পরিবেশ দুষন কঠোর ভাবে হস্তক্ষেপের দাবী জানান। অন্যদিকে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা মিল-কলকারখানায় কারণে জনদুর্ভোগ ও শ্রমিক-কর্মচারীদের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন


এ জাতীয় আরো খবর...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর