মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
দেশের প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

কুষ্টিয়ায় উচ্ছেদকৃত পরিবারের পাশে জয় নেহাল: ৭ দিনের খাবার প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪১২ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ, ২০২১, ৫:৪৮ অপরাহ্ন

সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে হাউজিং তালতলা বস্তির অসহায় পরিবারের মাঝে ৭ দিনের খাবার তুলে দিলেন আমেরিকা প্রবাসী জয় নেহাল। কুষ্টিয়ায় ৪০ লক্ষ লোকের বসবাস থাকলেও কেহই এগিয়ে আসেনি তাদের মুখে আহার তুলে দিতে। দুর্বৃত্তায়নের এই দেশে দুই-একজন ব্যক্তি ছাড়া আর কোন সৎ সাহসী মানুষের দেখা মিলল না আজ পর্যন্ত। দেখা মেলেনি অত্র এলাকার জনগণের সেবক যাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি হলেন পৌর কাউন্সিলর নজু। তাহলে কি তিনিও তাদের দলেই একজন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বস্তি ভাঙচুরের চারদিন পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোন প্রকার ব্যবস্থা নেননি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। বড়ই দুঃখজনক যে, ৭ মাসের শিশু সন্তান দুধের জন্য আত্মচিৎকার করছিল, তার আত্মচিৎকারে সর্বপ্রথম সাড়া দিয়ে দিয়েছিল মানবাধিকার কর্মী ও সংবাদকর্মী শাহরিয়ার ইমন রুবেল। সেই সাথে গত রাতের খাবারও তিনি জোগাড় করে দিয়েছিলেন। শাহরিয়ার ইমন রুবেলের ওই স্ট্যাটাসটি দেখে প্রবাসী জয় নেহালের বুকটা কেঁপে ওঠে তাৎক্ষণিকভাবে আমেরিকা থেকে আমাদেরকে জানান। বিষয়টি শোনা মাত্রই আমরা ছুটে যাই সেখানে। গত বুধবার রাতে প্রবাসী জয় নেহাল মাসব্যাপী ওই বাচ্ছাটির দুধের ব্যবস্থা করেছেন সেই সাথে ৬টি পরিবারের ২৬ জন মানুষের ৭ দিনের খাবারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ৬টি পরিবারের ২৭ জন মানুষ এখন ওই ধ্বংসস্তূপের ওপর বসে রোদে পুড়ে দিনযাপন করছে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নাই। আমরা একজন নগণ্য সংবাদকর্মী মাত্র আমাদের পকেটে টাকা না থাকলেও আমরা এগিয়ে যায় তাদের পাশে, অথচ কুষ্টিয়ার অনেক শিল্পপতি ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদসহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি আছে তারা তাদের নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। এধরনের অসহায় গরিবের দিকে তাকানোর সময় পর্যন্ত তাদের নেই। আমরা হতবাক! কুষ্টিয়াতে কি আর কোন মানবতার সেবক নেই যে তাদের পাশে একটু দাঁড়াক। ২৬ টি মানুষ এখনো ওই ধ্বংসস্তূপের ওপর বসে আছে আর প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছে যে প্রশাসন আমাদের ব্যবস্থা করে দিবেন। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বিষয়টি আমরা দেখছি, অথচ কোনো প্রকার পদক্ষেপ এখনো তারা নেননি, গতকাল বিকেলে কুষ্টিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিনে পরিদর্শন করার পরেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি তাদের জন্য। স্থানীয় জনগন বলছেন, আসলে এটাই কি তাদের জন্য মুজিববর্ষের উপহার ছিল? মুজিব বর্ষ দিবস উপলক্ষে যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গৃহহীনদের বসতবাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছেন সেখানে আজ তাদেরকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। কার ইশারায়, কোন ইশারায় তাদেরকে উচ্ছেদ করা হলো, বিষয়টি জরুরী ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেছেন এলাকাবাসী। কুষ্টিয়ার এক কৃতি সন্তান ও সমাজসেবক তিনি সব সময় মানবতার কাজে নিয়োজিত থাকেন, তিনি হলেন রাসেল পারভেজ। তিনিও ওই বাচ্চা শিশুটির জন্য লেপ-তোষক থেকে শুরু করে মশারি পর্যন্ত সবকিছু দিয়েছেন গতকাল। গত বুধবার রাতে তাদের হাতে খাবার তুলে দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর খন্দকার মাজেদুল হক ধীমান, ডাঃ সজিবুল হক, দৈনিক গণকন্ঠের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি শাহীন রেজা, রাসেল পারভেজ, পলাশ, সালমান শাহেদ, কিশোর, সাকিব ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছোটভাই। এছাড়াও এক সহযোদ্ধা বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জন কৃষ্ণ শীল শুভ, সদর উপজেলা শাখার সভাপতি আবু মনি সাকলায়েন এলিন, তৌকির আহমেদ সহ আরো অনেকে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন


এ জাতীয় আরো খবর...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর