মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:১২ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
দেশের প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

পানি সংকটে পাহাড়ী মানুষের জীবনধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩১৬ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১, ৯:৫৫ অপরাহ্ন

পানি সংকটে জীবনধারণ করতে হয় পাহাড়ী মানুষের। পাহাড় অঞ্চলে বসবাসের জন্য সবসময় ঝরনার পানির উপর করতে হয় তাদের। খাবার পানি সহ জীবনধারনের জন্য সারা বছর প্রয়োজনীয় পানির একমাত্র ভরসা এই ঝিরি-ঝরনা। কিন্তু বর্ষা থেকে শুরু হয়ে শীত মৌসুম পর্যন্ত ঝিরি-ঝরনা থেকে পানি সংগ্রহ করা গেলেও মাঘ-ফাল্গুন থেকে পাহাড়ে সুপেয় পানির সঙ্কট দেখা দেয়।

সরকারি হিসেব মতে, জেলায় ৬৫ ভাগ মানুষ সুপেয় পানির আওতায় এসেছে। তবে বছরের অর্ধেক সময় বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে জেলার ৭০ ভাগ মানুষ পানির অভাবে পড়ছে।

গ্রীষ্মের এই দাবদাহে আধঘণ্টা হেঁটে পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে অনেকে কাপ্তাই হ্রদ থেকে পানি সংগ্রহ করে আবার অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে পাশের গ্রাম কিংবা হ্রদ থেকে পানি সংগ্রহ করছে। এ যেন এক কলসির ঘামের দামে এক কলসি পানি সংগ্রহ করছে পাহাড়ি এসব মানুষ।

সরকারের উদ্যোগে দুর্গম কিছু কিছু পাহাড়ি গ্রামে রিংওয়েল ও টিউবওয়েল স্থাপন করা হলেও শুকনো মৌসুমে এসব থেকে পানি পাওয়া যায় না। গ্রামবাসী আশপাশের নিচু জায়গায় কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করলেও শুকনো মৌসুমেও এসব কুয়া শুকিয়ে যায়। তার ওপর নভেম্বরের পর থেকে এবছর এখনো পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টি না হওয়ায় বিশুদ্ধ পানির জন্য ধুকছে এসব গ্রামের মানুষ।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত হ্রদে পানির স্তর রয়েছে ৭৭.৫০ এমএসএল। অর্থাৎ বর্তমানের সময়ের তুলনায় আরও পাঁচ ফুট পানি কম রয়েছে কাপ্তাই হ্রদে। কাপ্তাই হ্রদে সর্বনিম্ন পানির স্তর ৬৮ এমএসএল।

সাজেকের শিয়ালদহ ১৬৯ নম্বর মৌজার হেডম্যান ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার জৈপুথাং ত্রিপুরা জানান, সাজেকের শিয়ালদহ, কংলাক, বেটলিং, লংকরসহ বেশ কয়েকটি মৌজায় খাবার পানির সংকট চলছে। এরমধ্যে পুরাতন জুপুই পাড়ায় ৪০ পরিবার, নিউ থাংনাং পাড়ায় ৫০ পরিবার, তারুম পাড়ায় ২৫ পরিবার, কমলাপুর পাড়ায় ১৯ পরিবার, লুংথিয়ান পাড়ায় ৬২ পরিবার, অরুণ পাড়ায় ৭০ পরিবার, খাইচ্যা পাড়ায় ৩০, শিয়ালদাহ ৬২ পরিবার, হাইস্কুল পাড়ায় ৩৫, খগড়াকিচিং পাড়ায় ২৬, নিউ লংকরে ২২ পরিবার, অলংকরে ১৮ পরিবার, হুাদুকপাড়ায় ১৪ পরিবার এবং আনন্দ পাড়ায় ২৮ পরিবার বসবাস করে। তাদের প্রত্যেকেই তীব্র পানির সঙ্কটে ভুগছেন।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মূলত সমতলের পদ্ধতি ব্যবহার করে পাহাড়ে সুপেয় পানির সংকট নিরসন করা সম্ভব না। পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সঠিক মতো পাওয়া যায় না। যার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে গভীর ও অগভীর নলকূপ স্থাপনের মধ্য দিয়েও পুরোপুরি পানি সঙ্কট সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

রাঙ্গামাটি জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এখানে পানির ব্যবস্থা করা সমতলের চাইতে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ। তারপরও আমরা সাধারণ মানুষের কাছে খাবার পানি পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়নে ৫২টি পানির উৎস সৃষ্টি করছি।
রাঙ্গামাটি জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এখানে পানির ব্যবস্থা করা সমতলের চাইতে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ। তারপরও আমরা সাধারণ মানুষের কাছে খাবার পানি পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়নে ৫২টি পানির উৎস সৃষ্টি করছি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন


এ জাতীয় আরো খবর...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর