শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
জয়পুরহাটে বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী ফোরাম ও অগ্রযাত্রা মানবাধিকার উন্নয়ন আইন সহায়তা সংস্থার ইফতার বিতরণ কুষ্টিয়ায় ইচ্ছে নদী ফাউন্ডেশনের আত্মকর্মসংস্থান কর্মসূচি ঝিনাইদহে আগুনে পুড়ে ৭ মাসের শিশুর মৃত্যু নীলফামারীতে গাছের চাপায় স্বামী-স্ত্রী ও বর্জ্রপাতে এক নারীর মৃত্যু দৌলতদিয়া অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তাকে জরিমানা রাজবাড়ীতে গাঁজাসহ নারী মাদক-কারবারি গ্রেপ্তার স্ক্র্যাচ কার্ড দিয়ে প্রতারনা করায় ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা কুষ্টিয়ায় দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু উত্তরণ ফাউন্ডেশনের উদ্দ্যোগে দৌলতদিয়ায় পিছিয়ে পড়া তৃতীয় লিঙ্গের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ কালীগঞ্জে বেঁদে পল্লীর ৫ শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
ঘোষণা:
দেশের প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

হেফাজতের মামুনুল হক গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১০৮ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১, ৩:১৭ অপরাহ্ন

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেফতার করেছে। আজ রবিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি ইফতেখার ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম জানিয়েছেন, গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম ও ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের যৌথ অভিযানে মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্টে নারীসঙ্গীসহ অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর থেকেই মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। ওই ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তাকে নজরদারিতে রেখেছিল।

গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামুনুল হক ওই মাদরাসার দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ ও তেজগাঁও বিভাগের শতাধিক পুলিশ প্রথমে ওই মাদরাসাটি ঘিরে ফেলে। এসময় মাদরাসার ভেতরে দেড় শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন।

পুলিশের অভিযানে প্রথমে তারা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত পুলিশ দেখে হাল ছেড়ে দেয়। পরে মামুনুল হককে দোতলার ওই কক্ষ থেকে তুলে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে তোলা হয়। সেখান থেকে প্রথমে তাকে মিরপুর সড়কে পুলিশের তেজগাঁও ডিভিশনের ডিসি কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখান থেকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হচ্ছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক মোদীবিরোধী আন্দোলনের সময় সহিংসতার মূল হোতা হিসেবেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে তাকে পুরনো মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। পরে একে একে অন্যান্য মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়েল রিসোর্টে এক নারীর (ঝর্ণা) সঙ্গে অবস্থানকালে অবরুদ্ধ হন হেফাজত নেতা মামুনুল হক। ওইদিন তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানান, সঙ্গে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। দুই বছর আগে শরিয়া আইন মোতাবেক ওই নারীকে তিনি বিয়ে করেন। যদিও পরবর্তীতে তার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

অবরুদ্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই হেফাজত নেতারা ওই রিসোর্টে লাঠিসোটা নিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও নাশকতা চালিয়ে মামুনুল হককে মুক্ত করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর মামুনুলে দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

ওইদিনই হেফাজতের নেতাকর্মীরা রিসোর্ট, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়, বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। এছাড়া তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে।

পুলিশের ওপর হামলা ও রিসোর্টে ভাঙচুরের অভিযোগে মামুনুল হকসহ ৮৩ মজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়। এছাড়া মামলায় ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামিও করা হয়।

মামলায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা ও রিসোর্টে ভাঙচুরের অভিযোগ এনে ৪১ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত ২৫০-৩০০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় মামুনুল হককে প্রধান আসামি করা হয়।

এ মামলা ছাড়াও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে ৪২ জনের নাম উল্লেখ ও ২৫০/৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে আরেকটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় হেফাজতে ইসলাম, জাতীয় পার্টি ও বিএনপি নেতাকর্মীদেরও এজাহারভুক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন


এ জাতীয় আরো খবর...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর