সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
দেশের প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

করোনায় দেশের ক্ষতি ১৭শ’ কোটি মার্কিন ডলার : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫১ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১, ৬:৫২ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন করোনা মহামারিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৯ জুন) ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে করোনা ভাইরাসজনিত কারণে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আনুমানিক এক হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থনৈতিক অভিঘাত থেকে উত্তরণে আমরা ১৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছি।’

বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাবে। মানুষের জীবন-জীবিকাকে প্রাধান্য দিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো। করোনা মহামারি কাটিয়ে উঠে বাংলাদেশ উন্নয়নের অভিযাত্রায় পুনরায় শামিল হতে পারবে। বাংলাদেশ আরও একধাপ সামনে এগিয়ে যাবে।’

করোনায় বন্ধুপ্রতিম দেশ ও সংস্থাকে বাংলাদেশ পাশে পেয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকা সংগ্রহসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেয়েছি। মহামারি নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ ও প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে ২.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজেট সহায়তা ঋণ পেয়েছি। আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে আরও প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা আমরা পেতে যাচ্ছি। এর পাশাপাশি টিকা কিনতে ভ্যাকসিন সাপোর্ট বাবদ আরও ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তার আশ্বাস পেয়েছি। বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সহায়তা পাওয়া সহজ হয়েছে। বাংলাদেশকে বিপুল বৈদেশিক সহায়তা প্রদানের জন্য সব উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘মহামারির সময়েও আমরা অর্থনীতি গতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছি। যদিও এর নেতিবাচক প্রভাব আমাদের অর্থনীতির ওপর পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জীবিকার সুযোগ অব্যাহত রাখতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সময়োচিত নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের ফলে আমাদের আমদানি-রফতানিসহ অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। বিভিন্ন সেক্টরে এর প্রভাব দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য আমরা প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোভিড-১৯-এ সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে আমরা আগেই একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমরা সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ব্যাংক ব্যবস্থাপনা থেকে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বৃদ্ধি ও বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা আশু করণীয়, স্বল্প মেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমাদের অন্যতম লক্ষ্য পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া। সব শ্রেণির মানুষ যাতে সুবিধা পায়, সেই ব্যবস্থা করা। সব পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের কাজ আমরা গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছি।’

সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের প্রণোদনা প্যাকেজগুলো অত্যন্ত সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে। ২৩টি প্যাকেজের এক লাখ ২৮ হাজার ৪৪১ কোটি টাকার বিপরীতে মে ২১ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হার ৭১.৫০%। এ পর্যন্ত ৬ কোটি ৫ লাখ ব্যক্তি এবং এক লাখ ৬ হাজার প্রতিষ্ঠান সরকারের এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হয়েছে। প্যাকেজ কার্যক্রম থাকায় এই সংখ্যা সামনে আরও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবা খাতের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ৪১ হাজার কোটি টাকা স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে গত মে পর্যন্ত তিন হাজার ২৮৮ হাজার প্রতিষ্ঠানকে ৩২ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। কুটির ও মাঝারি শিল্পের মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের মধ্যে মে মাস পর্যন্ত ৯৬ হাজার ৬৭৫টি এসএমই প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৪ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। প্রাপ্তদের মধ্যে নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন ৫ হাজার ২৫৩ জন।’

আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে সংসদ নেতা বলেন, ‘এই বাজেট দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা ও জীবন-জীবিকা সুরক্ষা ও মহামারির অর্থনৈতিক প্রভাব দৃঢ়তার সঙ্গে কাটিয়ে ওঠার ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনসহ আমাদের উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন চাই। আমরা প্রবৃদ্ধি চাই। আবার সমাজের দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ঘটাতে চাই। প্রবৃদ্ধির সুফলটা যেন তৃণমূলের মানুষ পায়, সেটাই চাই।’

তিনি বলেন, ‘দেশ কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে উৎপাদননির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই রূপান্তর দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নে সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। আমরা একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন


এ জাতীয় আরো খবর...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর