বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ঘোষণা:
দেশের প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

করোনাকালে কুষ্টিয়ার এক উপজেলাতেই ৭৫ শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫৩ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৭:৪২ অপরাহ্ন
gonosomoy

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একই ইউনিয়নের ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে করোনাকালে ৭৫ জন শিক্ষার্থীর বাল্য বিবাহের সংবাদ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রয়েছে। অভিভাবকরা বলছেন, দেশ কবে স্বাভাবিক হবে কিনা বা বেঁচে থাকবেন কিনা এই চেতনা থেকে বিয়ে দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৫ জন শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ে হয়েছে। তার মধ্যে দয়রামপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী পর্যন্ত ১৯জন, মহেন্দ্রপুর দারুস সুন্নাহ বালিকা আলিম মাদ্রাসার অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ২১ জন, মহেন্দ্রপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১৫ জন এবং চরভবানীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী পর্যন্ত ২২ জন। এছাড়া ২০ নং দয়ারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিবাহ হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে অধিকাংশ অভিবাবক জানান, করোনার মধ্যে আতংকিত হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারন দেশ কখনো স্বাভাবিক হবে কিনা বা বেঁচে থাকবেন কি-না এমন চেতনা থেকে বিয়ে দিয়েছেন। অনেকেই জানান দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ ছিলো আর কখনো খুলবে কিনা তার নিশ্চয়তা ছিলো না। তাছাড়া আগে অনেক মেয়েরই ৮/৯ বছরেও বিয়ে হয়েছে। কম বয়সে বিয়ে দিলে সমস্যা কি?
মহেন্দ্রপুর দারুস সুন্নাহ বালিকা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি দেখে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পেরেছি অনেকের বিয়ে হয়ে গেছে। তবে বিবাহিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকে এখনো নিয়মিত ক্লাস করছে।
দয়ারামপুর ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ রাশিদুল ইসলাম বলেন, করোনার কারনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেড় বছরের মতো বন্ধ ছিল। এই সময়টাতে অনেকের বাল্য বিবাহ হয়েছে জানতে পেরেছি। তাছাড়া আমাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। আমরা কিছু অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছি তারা জানিয়েছেন আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তারা তাদের মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে।
মহেন্দ্রপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম খান বলেন, করোনাকালে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে গেছে। এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকালীন মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক মেয়েরই বাল্য বিবাহ হয়েছে যা আমরা প্রতিষ্ঠান খোলার পর জানতে পেরেছি।
চরভবানীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল লতিফ খান বলেন, এলাকার মানুষের মধ্যে শিক্ষার হার কম ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এবং স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ে দিয়েছে তাদের অভিবাবক।
২০নং দয়ারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শামসুল আলম বলেন, স্কুল খোলার পর জানতে পারি আমাদের প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকালীন বাল্য বিয়ে হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পারিবারিক অসচ্ছলতা এবং ভালো পাত্র পাবার কারনে বিয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রশিদ জানান, করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকা অবস্থায় বাল্যবিয়ে হয়েছে যেকারণে জানতে পারিনি। তবে সংবাদ পেলে তাৎক্ষণিক ইউএনও ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে দিয়ে আমরা বাল্যবিয়ে বন্ধের ব্যবস্থা করে থাকি। কুমারখালীতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি রয়েছে সন্তোষজনক।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন


এ জাতীয় আরো খবর...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর