বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৮:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ঘোষণা:
দেশের প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

সুতার বাজার ঊর্ধ্বগতি: হুমকির মুখে কুষ্টিয়ার তাঁত শিল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৫৫ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১১:২৭ অপরাহ্ন
gonosomoy

চলমান সুতার বাজারে ঊর্ধ্বগতি দামের কারণে হুমকি মুখে পড়েছে কুষ্টিয়া কুমারখালীর তাঁত শিল্প। ছোট ছোট কারখানাগুলোতে দেখা দিয়েছে বন্ধের উপক্রম। বড় বড় কারখানাগুলোতে এর প্রভাব পড়ছে। যার ফলে এক সময়ের অর্থনৈতিক প্রধান চালিকা শক্তি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাপড়ের হাট হিসেবে সুপরিচিত কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের হাটটি নানা সমস্যায় আজ ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।
তাঁত শিল্পে সমৃদ্ধ ছোট জনপদ কুমারখালীর অর্থনৈতিক প্রধান চালিকাশক্তিই হচ্ছে তাঁত শিল্প। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পটি দেশের বস্ত্র খাতে একটি উল্লেখযোগ্য স্থান আজও দখল করে রয়েছে।
এ তাঁত শিল্পে উৎপাদিত পণ্য ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বস্ত্রকে কেন্দ্র করেই ১৯৩৮ সালে কুমারখালী পৌর এলাকায় গড়ে ওঠে এই কাপড়ের হাট। যা পরবর্তীতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাপড়ের হাট হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তখন এ হাটের যেমন ছিল সুনাম, তেমনই ছিল জৌলুস।
ঐতিহ্য তাঁত শিল্পের শ্রমিকরা চরম দুর্দিনে মধ্যে রয়েছেন। তাঁত মালিকরা অর্থনৈতিক সঙ্কট, কাঁচামালের অভাব ও নানান প্রতিকূলতার কারণে জেলার এককালের প্রসিদ্ধ এই তাঁত শিল্প বিলুপ্ত হতে চলেছে। ফলে এ শিল্পের সাথে জড়িত লক্ষাধিক শ্রমিক এখন বেকার হয়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। ক্রমাগত লোকসান, প্রয়োজনীয় পুঁজি, সুষ্ঠুনীতিমালার অভাব, চোরাই পথে আসা ভারতীয় কাপড়ে সয়লাব আর দফায় দফায় কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধির কারণে চরম দুর্দিনে রয়েছেন তাঁত শ্রমিকরা। এছাড়াও কাপড়ের রং, ক্যামিক্যাল ও সুতার মূল্য বৃদ্ধির কারণে তাঁতের তৈরি কাপড়ের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। মেশিনের তৈরি নানাবিধ পণ্যসামগ্রী বাজারে আসায় দেশীয় তৈরি কাপড়ের চাহিদা একেবারেই কমে গেছে। ফলে একরকম দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন এ পেশার সাথে জড়িত শ্রমিকরা। এক সময় সকাল থেকে সন্ধ্যা অবদি টাকুর-টুকুর শব্দে মুখর হয়ে থাকত যে তাঁত পল্লীগুলো। এখন আর সেখানে তাঁতের কর্মমুখরতা নেই।
কালের বিবর্তনে বর্তমানে সেখানে এখন নিঃশব্দের নিরবতা । মাঝে মাঝে কয়েকটি তাঁত কল চললেও আগের মতো আর তাদের তাঁতে সুর ওঠেনা। ঠিকমতো সংসার চলে না। পেটের দায়ে পূর্বপুর“ষের এই পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হ”েছন তারা। সূত্র জানায়, তাঁত শিল্প নগরী খ্যাত কুষ্টিয়ার কুমারখালী, খোকসা ও মিরপুর, পাংশা , লাঙ্গল বাঁধ উপজেলায় প্রায় ৮০ হাজারেরও অধিক তাঁতী ছিল। এরমধ্যে খটখটি তাঁত ১৪ হাজার হস্তচালিত পিটলং তাঁত ৪৪ হাজার ও বিদ্যুৎ চালিত ২০ হাজার প্রতি বছর ২শ’ ৬০ কোটি টাকা মূল্যের কাপড় তৈরি হত এ জেলায়।
২ কোটি ৮৮ লাখ পিস লুঙ্গি, ১৫ লাখ পিস বেডকভার, ৭২ লাখ পিস গামছা তোয়ালে উৎপাদন হত। এক সময় এ জেলায় বস্ত্রশিল্পের বার্ষিক আয় ছিল ৩শ’ কোটি টাকার উপরে। দেশের মোটা কাপড়ের চাহিদার ৬৩ ভাগ পূরণ করতো কুষ্টিয়ার তাঁতীরা। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এ তাঁত কাপড়ের ছিল ব্যাপক চাহিদা।
বর্তমানে এ চাহিদা কমে ৩৫ ভাগে নেমে এসেছে। সব কিছুর দাম বাড়লেও আশানুর“প তাঁতবস্ত্রের কোন দাম না বাড়ায় কুষ্টিয়ার ১ লাখ ১৪ হাজার শ্রমিকের মধ্যে ৫০ হাজার তাঁত শ্রমিক পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। এখনও পুরাতন পেশা হিসেবে এ পেশায় টিকে আছে কয়েক হাজার তাঁতী।
আলমগীর হোসেন ক্ষুদ্র লুঙ্গি ব্যবসায়ী জানায়, দীর্ঘদিন যাবৎ এ পেশার সাথে জড়িত আছেন তারা। এখন পেশা হিসেবে অন্য কিছু করতে চাই। তাঁত চালিয়ে জীবন যাপন করা অসম্ভব হয়ে পড?েছে।
তাঁতের কারিগর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ কাজ করেই সংসার চলে কুমারখালীর তাঁতীদের । এই তাঁত শিল্প কে বাঁচাতে হলে অবশ্যই কারিগরদের দিকে তাকাতে হবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে। এ শিল্পে ব্যবহার্য প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম কমালে ও তাঁত বস্ত্র বিক্রির সমাধানে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তাঁতীরা ফিরে পাবে তাদের হারানো ঐতিহ্য।
সোহেল রানা লুঙ্গি ব্যবসায়ী জানান, তাঁত শিল্পের জন্য সরকারের নতুন করে ভাবতে হবে ।
প্রতি নিয়ত লুঙ্গির বাজারে দরপতন হ”েছ এমন হলে টিকে থাকতে পারব না আমরা।
কুমারখালী ফ্যাক্টরি অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা জানান, দুই শ’ বছরের পুরোনো কুমারখালী তাঁত শিল্প লক্ষাধিক মানুষ এই শিল্পের সাথে জড?িত। পরিকল্পিতভাবে সুতার বাজারে দরপতন স্থানীয় বাজারে ব্যাকপ ভাবে প্রভাব বিস্তার করে। গ্লোবাল মার্কেটিং এবং বিকেএমইএ , বিজিএমইএ বন্ড মার্কেট কারণে সুতার দামের হেরফের হাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সুতার দাম বেশি হ”েছ।
কুমারখালী তাঁত বোর্ডের ব্যাবস্থাপন মেহেদী হাসান জানান, সম্প্রতি সময়ে কুমারখালী তাঁতিদের দূর দিন চলছে, এর প্রধান কারণ করোনা, এবং সুতার ও রং এর দাম বেশি। তাঁত বোর্ড একটি তাঁতি বান্ধব প্রতিষ্ঠান’ এই শিল্প কে বাঁচাতে হলে অবশ্যই কাঁচামালের মূল সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। এই বিষয় কে মাথায় রেখেই কুমারখালী তাঁত বোর্ডকে আধুনিক করণের কাজ চলছে।
কুমারখালী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডল জানান, কুমারখালী তাঁত শিল্প একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প, কিছু দিন ধরে শুনতে পারছি এই শিল্পের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পা”েছ। যেহেতু এটা জাতীয় ভাবে বৃদ্ধি পা”েছ বিষয়টি গুর“ত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
জেলা প্রশাসক মহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ জানাই নি, এখন জানতে পারলাম অবশ্যই খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন


এ জাতীয় আরো খবর...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর